Subscribe Us

Header Ads

তিন গোয়েন্দা [[[ বুদ্ধির খেলা]]] পর্ব:৩

তিন গোয়েন্দা [[[ বুদ্ধির খেলা]]] পর্ব:৩ 

তিন গোয়েন্দা পর্ব - ৩



তাকালেন। ...আর নিয়মিত ভাড়া দেয়ার সাধ্য না থাকলে যাওয়ার আগে তোমার নেড়ি কুত্তাটাকেও নিয়ে যেয়ো । রাফিয়ানের কথা বলা হচ্ছে! মুসার কালো মুখটা আরও কালো হয়ে গেল। রবিন খুকধুক করে। কাশল । কিশোরের চেহারা মারাত্মক গভীর। অসহায় দেখাল শ্যারনকে। মুখটা রক্তশূন্য। তিন গোয়েন্দার দিকে তাকাল শ্যারন। ‘তা হলে এখন কী হবে? রাফিয়ানকে কোথায় রাখব? আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে কুকুর রাখার নিয়ম নেই।' ‘কোনও চিন্তা কোরো না, আশ্বাস দিল কিশোর। ‘ও আমার কাছে থাকবে। আমার বাঘার সঙ্গে ভাল খাতির ওর। দু'জন মিলে খেলা করে সুন্দর সময় কাটাতে পারবে। নিয়ে এসো ওকে। আমরা বাইরে অপেক্ষা করছি। মনে হলো কিশোরের কথায় ভরসা পেল শ্যারন, রিসেপশন থেকে। বেরিয়ে কেনেলের দিকে গেল ও। মোটেলের সামনের পোর্টিকোতে। গাড়ির পাশে চলে এলো তিন গোয়েন্দা। একটু পরই ফিরল শ্যারন, এক হাতে বাদামী রঙের রাফিয়ানের। শেকল ধরে রেখেছে। বন্ধুদের সামনে এসে দাঁড়াল, মুখে স্নান হাসি। শেকলটা কিশোরের দিকে বাড়িয়ে দিল। 'এই যে নাও । খুব খারাপ লাগছে আমার। ঈশ্বর জানেন জিনা কী মনে করবে। শেকলটা নিল কিশোর। মুসা বলল, কিছু মনে করবে না ও । কী। ঘটেছে শুনলে বরং এভাবে তোমাকে অপমান করেছে বলে রেগে যাবে। মিস্টার লেবউফের ওপর। ভউ! ভউ! কিশোরের গাল চেটে দেওয়ার চেষ্টা করল রাফিয়ান, লম্বা লেজটা ঘনঘন নাড়ছে আনন্দে। কিশোর চট করে মুখটা সরিয়ে নেওয়ায়। বিন্দুমাত্র দেরি না করে ঘুরেই রবিনের গাল চেটে দিল। রিসেপশনের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছেন মিস্টার লেবউফ। নিষ্ঠুরভাবে বললেন, ‘চোরের রুচি আছে, এটাকে নিয়ে যায়নি।' ‘ও মাংগুল হতে পারে, কিন্তু ও খুব ভাল মানুষ, কড়া গলায় বলল শ্যারন। ‘রাফিয়ান ওই আদুরে কোলির চেয়ে অনেক কাজের। ভউ! হুঙ্ক! হ্যাই, হ্যাহু! শ্যারনের হাত চাটার ফাকে যেন সায় দিল রাফিয়ান। পার্স খুলে একটা কাগজ বের করল শ্যারন, ওটা গোল করে মুড়িয়ে বলল, রাফি, ধর!' সঙ্গে সঙ্গে আলতো করে ওটা শ্যারনের হাত থেকে নিয়ে নিল। রাফিয়ান। এবার শ্যারন নির্দেশ দিল, ‘দিয়ে দে ওটা। মুখ আলগা করে মোড়ানো কাগজটা শ্যারনের দিকে বাড়িয়ে ধরল রাফিয়ান। ‘লক্ষ্মী ছেলে । পার্স থেকে বিস্কুট বের করে ওকে দিল শ্যারন। মিস্টার লেবউফের দিকে তাকিয়ে বলল, বসতে বললে বসে ও, গড়াগড়ি খেতে বললে তা-ও পারে, কাউকে দেখিয়ে ছুঃ বললে তার দিকে ছুটে যায় ঘেউঘেউ করতে করতে। কিন্তু কখনও কামড়ায় না ও। বললে হ্যান্ডশেকও করে । পারবে মিস্টার রকফেলারের কোলি এতোকিছু করতে? ' জবাব দিলেন না মিস্টার লেবউফ, শুধু মুখ বাঁকালেন। গাড়িতে করে শ্যারনকে ওদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সামনে নামিয়ে দিল তিন গোয়েন্দাতারপর রাফিয়ানকে নিয়ে ফিরে চলল স্যালভিজ ইয়ার্ডের উদ্দেশে। ইতিমধ্যে নিজেদের ভিতর আলোচনা করে ঠিক করে ফেলেছে, ক্যাপ্টেন ইয়ান ফ্লেচারকে জানাবে ওদের সন্দেহের কথা। কেউ বা কোনও দল বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কুকুর চুরি করছে। ইয়ার্ডের ভিতর গাড়ি ঢুকিয়ে নামল তিন গোয়েন্দারাফিয়ানকে ছেড়ে দিল উঠানে। বাঘার গায়ের গন্ধ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বাঘার সঙ্গে। খেলা করতে ছুটল রাফিয়ান। ‘চলো কিছু পেটে দেয়া যাক,' বলল মুসা। মনে হচ্ছে জীবনে কোনদিন খাইনি কিছু।' বাড়ির ভিতর ঢুকল ওরা। সোজা কিচেনে চলে এলো। জানালার পাশেই ফ্রিজ, ওটার দরজা খুলল মুসাটার্কির রোস্ট আর পাউরুটি বের করে মাইক্রোওয়েভ আভেনে ভরল। হাসি-হাসি চেহারায় কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু কিশোর আর রবিনের চেহারা দেখে থমকে গেল। জানালার সামনে দাঁড়িয়ে বিমূঢ়ের মতো তাকিয়ে আছে কিশোর রবিন । ঝট করে ঘুরল মুসা ওরা কী দেখছে বোঝার জন্য। ওর শিরদাঁড়া বেয়ে ঠাণ্ডা একটা স্রোত বয়ে গেল। রবিন সম্বিত ফিরে পেয়ে বলে উঠল, নিয়ে গেল!' হ্যা, নিয়েই যাচ্ছে বটে! দু’হাতে রাফিয়ানকে জাপ্টে ধরে তুলে নিয়ে ছুটছে এক হালকা-পাতলা লোক। রাবারের মুখোশ পরে আছে সে. চেহারা দেখার উপায় নেই। এক পলকে যেন উড়ে বেরিয়ে গেল লোকটা ইয়ার্ডের দরজা দিয়ে। ‘চলো! তাগাদা দিল কিশোর। জানালা টপকে নীচে নেমেই ছুটতে শুরু করল ও । পলকের জন্য ভাবল, বাঘা কেন পিছু নিচ্ছে না। কিশোরের পিছনে দৌড় দিল রবিন আর মুসা। তিনজনই প্ৰাণপণে ছুটছে। ইয়ার্ডের গেট পেরিয়ে থমকে দাড়াল ওরা। একরাশ ধুলো উড়িয়ে রওনা হয়ে গেছে পুরোনো একটা ধূসর গাড়ি। ওটার একটা দরজা। হলদে রং করা । ক্রমেই দূরে চলে যাচ্ছে, তারপর ঝাঁক নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল গাড়িটা! রাফিয়ানের ভউ-ভউ অস্পষ্ট হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে! এক দৌড়ে মুসার ফোক্সওয়াগেনের কাছে ফিরে এলো ওরা, দেরি না। করে লাফ দিয়ে চড়ে বসল। ছুটল ওরা কুকুর-চোরের পিছনে। বড়। রাস্তায় উঠে ধূসর গাড়িটার মতোই বামদিকের ঝাক ঘূরল মুসা। স্টিয়ারিং হুইলের উপর এঁকে বসেছে ও। সহজে কুকুর-চোরকে হারাতে চায় না। বলে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। ‘ওই যে!' দূরে ধূসর গাড়িটা দেখতে পেয়ে বলে উঠল রবিন। আবার বঁাক নিচ্ছে!'আধ মিনিট পর বাক নিল মুসাও। ধূসর । গাড়িটা ওদের কয়েকশো। গজ সামনে। হলুদ দরজাটা বেমানান লাগছে এতোটা দূর থেকেও । দরজাটা বোধহয় কোনও জাঙ্ক ইয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করেছে,' মন্তব্য করল মুসা। ‘গাড়ি যেমনই হোক, ওটায় বিল্টইন কার-ফোন আছে,' বলল। কিশোর। গাড়ির পিছনের অ্যান্টেনাটা দেখা যাচ্ছে। হাইওয়ের দিকে যাচ্ছে লোকটা।' ‘অ্যান্টেনাটা দেখতে পাচ্ছি,বলল মুসা। একটা ধীরগতির । ডেলিভারি ট্রাক পাশ কাটাল ও । ধূসর গাড়িটা ঢালু রাস্তার একটা অংশ পেরিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের। দিকে চলেছে। ‘দূরত্ব কমছে, জানাল মুসা । একেবারের বামদিকের লেনে সরে গেল ধূসর গাড়ির কুকুরচোরা । ড্রাইভার। দুপুর এখন। রাস্তায় গাড়িঘোড়ার ভিড়। তবুও তাকে হারাল না মুসা। ধূসর গাড়ি থেকে আর দুটো গাড়ি পিছনে আছে ওরা এখন। চাকার তীক্ষ আওয়াজ তুলে হঠাৎ ডানদিকে সরে গেল ধূসর গাড়ি। সামনের ওই রাস্তা পার হওয়ার আইল্যান্ড-ছাড়া জায়গাটার দিকে যাচ্ছে,' ফোক্সওয়াগেনের এঞ্জিনের গৰ্জনের উপর দিয়ে বলল মুসা। দক্ষ হাতে গাড়ি চালিয়ে অনুসরণ করল ও ধূসর গাড়িটাকে। লাইমস্টোন স্ট্রিটে পড়ল এবার ওরা। দু’পাশে বন্ধ ওয়্যারহাউস আর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বাড়িঘর। বন্দরের দিকে চলেছে ওরা । জায়গাটা বিশেষ সুবিধার নয়। চুরি-ডাকাতির জন্য কুখ্যাত। গাড়ির গতি কমাল মুসা। ‘লোকটা দু'ব্লক সামনে ডানদিকে মোড় নিয়েছে। একটু পরই মোড়টা ঘূরল ওরাও । একটা পরিত্যক্ত ওয়্যারহাউসের খোলা দরজা দিয়ে ধূসর গাড়িটাকে ঢুকে যেতে দেখল তিন গোয়েন্দা। আর ঠিক তখনই খকখক করে কেশে উঠে বন্ধ হয়ে গেল ক্ৰোক্সওয়াগেনের এঞ্জিন । ‘যাহু!' হতাশ গলায় বলল মুসা‘আবার প্লাগে ময়লা চলে। এসেছে ।' ‘তুমি প্লাগ পরিষ্কার করে এসো, আমরা লোকটার পেছনে যাচ্ছি। গাড়ি থামতেই নেমে পড়ল কিশোর। রবিন আর ও এগোল ওয়্যারহাউসটার দিকে। দেখে তো মনে হচ্ছে কেউ নেই ওয়্যারহাউসে,' কাছাকাছি পৌছে মন্তব্য করল রবিন। ‘গোটা এলাকাই পরিত্যক্ত,' সায় দিল কিশোর। ওদের পাশ [[চলবে.....]]]

Post a Comment

0 Comments