Subscribe Us

Header Ads

তিন গোয়েন্দা [[[ বুদ্ধির খেলা]]] পর্ব:২

 তিন গোয়েন্দা [[[ বুদ্ধির খেলা]]] পর্ব:২ 

তিন গোয়েন্দা পর্ব -২


ওগুলো বড়লোক কাস্টমারদের শখের কুকুরদের বিলাশবহুল। ঘর। ওগুলোর ভিতর সোফা, টেলিভিশন আর আরামদায়ক ফোমের খাটও আছে । ওগুলোর একটাতেই ছিল কোটিপতি হার্বার্ট রকফেলারের কোলি। পরিচিত একটা ভউ-ভউ ডাক শুনতে পেল তিন গোয়েন্দা। আওয়াজ লক্ষ করে তাকাতেই দেখতে পেল রাফিয়ানকে। মাঝারি আকারের একটা খাচার ভিতর থেকে ঘনঘন লেজ নাড়ছে আর ছটফট করছে রাফিয়ান। মুক্তি পেলেই ছুটে আসবে, সেজন্য অস্থির হয়ে আছে। রাফিয়ানের ডাক শুনে নানা আকারের খাচার ভিতর থেকে ডেকে উঠল। আরও কয়েকটা বিভিন্ন জাতের কুকুর । পকেট থেকে বিস্কুট বের করল। মুসাছোট প্যাকেটটা খুলে রাফিয়ানকে দিল। আয়োলাও অন্যান্য খাচার কুকুরগুলোকে ডগ-বিস্কুট বিলি করছে করিডরের শেষ মাথায় থামলেন ক্যাপ্টেন ইয়ান ফ্লেচার, স্টিলের তৈরি দরজাটা দেখালেন কিশোর, মুসা আর রবিনকে। ‘এখান দিয়েই চোরটা ঢুকেছিল। এবার হাত নেড়ে বিদায় চাইলেন তিনি, মিস্টার লেবউফকে বললেন, চিন্তা করবেন না, তদন্ত করব আমরা। দেখা যাক চোরটাকে ধরতে পারি কি না।' স্টিলের দরজা খুলে বেরিয়ে গেলেন। তিনি। একটু পরই তার গাড়ির আওয়াজ দূরে মিলিয়ে গেল । দরজার ওপাশে চলে গেছে কিশোরও, পকেট থেকে ছোট্ট একটা ম্যাগনিফাইং গ্লাস বের করে তালাটা পরীক্ষা করে দেখতে শুরু করল চাবি ঢোকানোর ফুটোর আশেপাশে আঁচড়ের দাগ ওর চোখ এড়াল না। এবার ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল ও। রাস্তা দেখা যায় এখান থেকে। সহজেই এখানে আসতে পারবে চোর, ছোট দরজাটা তালা-বদ্ধ থাকলে শুধু তিনফুট উঁচু একটা দেয়াল টপকাতে হবে তাকে কী বুঝলে?' দরজার কাছ থেকে কিশোরকে জিজ্ঞেস করলেন গ্রেগ। লেবউফ । শ্যারনের অপমানটা এখনও ভুলতে পারেনি কিশোর, নিরাসক্ত গলায় বলল, ‘চীফ ফ্লেচার যেমন বলেছেন, দেখে মনে হচ্ছে দরজাটা। জোর করে খোলা হয়েছে।' ভদ্রলোকের দিকে তাকাল ও। ‘কোন্ ঘরে 'কোলিটা ছিল?’ দরজা থেকে ডানদিকের প্রথম ঘরটা দেখালেন লেবউফ। ‘দরজার তালা বন্ধ থাকে না। তাতে খাবার দিতে আর দেখাশোনা করতে সুবিধে। একবার বাইরের স্টিলের দরজার তালা খুলে ভেতরে ঢোকার পর সহজেই ওটার কাছে যেতে পেরেছে চোর।' ‘খাবার দিতে গিয়েই আমি টের পাই কোলিটা নেই,’ বলল শ্যারন।‘প্রথমে এসেই অফিসের কাজগুলো সেরেছিলাম আমি, তারপর আসি খাওয়া দিতে । ‘অফিসের কাজ সারতে কতোক্ষণ লাগে?' জিজ্ঞেস করল রবিন। ওর হাতে নোটবুক আর কলম। ‘একঘন্টা মতো' জবাব দিল শ্যারন। ‘তারপর যখন দেখলাম কোলিটা নেই, তখনই বুঝলাম কোথাও কোনও মস্ত গোলমাল হয়ে গেছে। [[NB:বাংলার সেরা গোয়েন্দা গল্প পেজের অ্যাডমিন বা অন্য কারো অনুমতি ব্যতিত গল্প কপি করা নিষেধ ]] হার্বার্ট রকফেলার বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছেন, কাজেই ওটাকে আর কারও নিয়ে যাবার কথা নয়। এমনিতে কাউকে কোলিটা ছুতেও দেন না। তিনি। খারাপ কিছু ঘটেছে বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে মিস্টার লেবউফকে ফোন করি আমি ।’ ‘আর আমি ফোন করি পুলিশে, বললেন লেবউফ। সকাল সাতটা থেকে তোমার ডিউটি, ঠিক?' শ্যারনকে জিজ্ঞেস। । করল কিশোর। ‘হ্যা। আমি সাতটার সময় এসে আয়োলার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিই । আয়োলার দিকে ফিরল কিশোর। আপনি । যখন শ্যারনকে দায়িত্ব । বুঝিয়ে দিয়ে ঘুমাতে গেলেন, তখন কোলিটা ছিল?' সত্যি বলতে কী, আমি খেয়াল করিনি, জানাল আয়োলা। কিন্তু সারারাত ডিউটি করেছি, কোনও অস্বাভাবিক শব্দ শুনিনি। জোর দিয়েই বলতে পারি, আমার ডিউটির সময় কিছু ঘটেনি ।' ‘ডগ-হাউস শুরুর সময় থেকেই আমাদের সঙ্গে আছে আয়োলা আয়োলার পক্ষ টেনে বললেন লেবউফ। ‘ও যদি বলে অস্বাভাবিক কোনও শব্দ শোনেনি, তা হলে সেটাই ঠিক। ওকে পুরোপুরি বিশ্বাস করি। আমরা।’ ‘আরও কেউ চাকরি করে এখানে?' জিজ্ঞেস করল মুসা । না, জানালেন লেবউফ। ‘আমি আর স্ত্রী লরা ছুটির দিনগুলোতে কাজ চালিয়ে নিই। ব্যবসাটা আরও বড় করতে টাকা জমাচ্ছি আমরা, হলিউডের ডগ-হাউস ন্যাশনাল মোটেলটা কিনতে চাই । ফাস্ট ফুডের পর এতো ভাল ব্যবসা আর হয় না।করিডরের খালি ধাচাগুলোর দিকে তাকাল কিশোর। লেবউফ ওর চাহনি লক্ষ করেছেন । বললেন, ‘ব্যবসা এখনও ততোটা জমে ওঠেনি। কিন্তু শীঘি অবস্থা ফিরবে। সেজন্যেই আমি চাই না ডগ মোটেল নিয়ে বাজে প্রচারণা হোক। অথচ খবরের কাগজওয়ালারা এখন আমার পেছনে উঠে পড়ে লাগবে। রকফেলার কোটিপতি, তার ব্যাপারে খবর ছাপতে সাংবাদিকরা এক পায়ে খাড়া। প্রসঙ্গ পরিবর্তন করল আয়োলা, ফিরে গেল মুসার প্রশ্নে। বলল, আমি যখন এখানে প্রথম কাজে যোগ দিলাম, তখন আরও দু'জন কর্মচারী ছিল। তাদের একজন অ্যানিমেল টেকনিশিয়ান। অন্যজন এক মহিলা। নাম জেসিকা স্রিংগার। দু'জনের কেউ এখন আর এখানে চাকরি করে না। । হ্যা, কথাটা ঠিক, বললেন লেবউফ। নিক মিলহিজার নাম ছিল ওই ছোকরা টেকনিশিয়ানের। কুকুরের স্বাস্থ্য দেখভাল করতে তাকে চাকরিতে নিয়েছিলাম আমরা। পশুর ডাক্তার রাখলে যে খরচ হতো তার চেয়ে অনেক কম টাকাতে তাকে চাকরিতে নিই। ডাক্তারের বদলে তাকে দিয়েও আমাদের কাজ চলে যাচ্ছিল । নিক মিলহিজার আর জেসিকা প্রিংগারের বদলে এখনও কাউকে চাকরিতে নিইনি আমরা।' ‘নিক মিলহিজার চাকরি করল না কেন?' জিজ্ঞেস করল কিশোর । রবিন নোটবুকে তথ্যটা টুকে নেওয়ার জন্য কলম বাগিয়ে ধরল। ‘ওকে বরখাস্ত করেছি,' বললেন লেবউফ। কুকুরের গু পরিষ্কার করতে রাজি হয়নি সে । বলেছিল ওটা অ্যানিমেল টেকনিশিয়ানের কাজ নয়।' ‘আমি মিলহিজারকে চিনি, তথ্য জোগাল আয়োলা, ‘সে কুকুরচুরির সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত থাকার মতো মানুষ নয়।' নোটবুকে তথ্যটা টুকে নিল রবিন । মুসা ঢুকে গেছে কোলির ঘরে। কোনও সূত্র পাওয়া যায় কি না খুঁজে দেখছে। ‘আর জেসিকা প্রিংগার?' জিজ্ঞেস করল কিশোর। দিনের ডিউটি ছিল তার, জানাল আয়োলা। ভাল চাকরি পেয়ে চলে গেছে জেসিকা,বললেন লেবউফ। ‘নতুন পেটফুড সুপারস্টোরে কাজ নিয়েছে সে। ‘এমন কারও কথা আপনি মনে করতে পারেন যে আপনার ওপর খেপে আছে?' জিজ্ঞেস করল কিশোর। কারিনা মুর,' এক মুহুর্ত দ্বিধা না করে বললেন লেবউফ। ‘পত্রিকায় যেদিন ডগ মোটেল চালু হবার কথা শুনল সেদিন থেকেই আমার পেছনে লেগেছে সে ।' ‘পাশের বাড়িতেই থাকেন উনি, জানাল আয়োলা মর্টন। বিড়াল পোষে কারিনা মুর,' বললেন লেবউফ । ‘অন্তত শতখানেক বিড়াল আছে তার বাসায়। কুকুর অসম্ভব ঘূণা করে মহিলা। কোর্টে পিটিশনও করেছিল, যাতে আমি ডগ-হাউস চালু করতে না পারি । জুরির সিদ্ধান্তে যখন আমি জিতলাম, আরও খেপে গেল সে। বাড়িটা বানানোর সময় পিকেটিংও করেছে। পত্রপত্রিকায় কড়া কড়া সব চিঠি দিয়েছে। সেগুলো ছাপাও হয়েছে। গত সপ্তাহে তার একটা চিঠি ছাপা হয়েছে। তাতে সে অভিযোগ করেছে, পুরো এলাকায় কুকুরের গায়ের দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না । ‘আমি তো কোনও গন্ধ পাচ্ছি না,বলল মুসা। কোলির ঘর থেকে এই মাত্র বেরিয়ে এসেছে ও । সবকিছু ঝকঝকে তকতকে পরিষ্কার, খেয়াল করল কিশোর। ‘হুমকি দিয়ে কিছু ফোন আসছে ইদানীং,বলল আয়োলা। আমি নিজের পরিচয় দিলেই রেখে দেয়'। চাপা গলায় কথা বলে, পুরুত্ব না। মেয়ে বোঝা যায় না। ঠিক জানি না, তবে সে কারিনা মুরও হতে পারে। ‘কোলিটা চুরির সঙ্গে এইসব ফোনকলের যোগাযোগ আছে মনে করছেন?' জিজ্ঞেস করল কিশোর। ‘জানি না, বলল আয়োলা । ‘পাওয়া যাবে কোলিটাকে?' উচ্চগ্রীব দেখাল শ্যারনকে। ‘তদন্ত করব আমরাআশ্বাস দিল মুসা। রবিন বলল, সাধ্যমতো সবকিছুই করব। ' ‘তার মানে তোমরা তদন্ত করছ?’ ভ্ৰ কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন গ্রেগ লেবউফ।‘শ্যারন আমাদের বান্ধবী’ বলল কিশোর। ‘ওর জন্যে এটুকু করা আমাদের কর্তব্য। ‘একমাস ধরে শ্যারনের সঙ্গে কাজ করছি, অথচ একবারও ও বলেনি ও বিখ্যাত তিন গোয়েন্দার বন্ধু, বলল আয়োলা। ‘এখানে দাড়িয়ে বকবক করলে কোলিটা ফেরত আসবে না,' রুক্ষ স্বরে বললেন লেবউফ। 'কাজ আছে আমার, আমার সঙ্গে আর কোনও কথা না থাকলে আমি চললাম।' তিন গোয়েন্দার দিকে তাকালেন তিনি। ওরা নীরব দেখে গটগট করে হেঁটে রিসেপশন অফিসের দিকে ফিরে 'চললেন। আয়োলা বলল, “আমাকেও আপাতত যেতে হচ্ছে। বাসায় ফোনে যোগাযোগ করে বাবা-মাকে জানাতে হবে আমি কোথায় আছি। বাড়তি ডিউটি করতে হবে আমাকে। ফিরতে দেরি হবে।' নিজের অফিসে ঢুকে দরজাটা ভিড়িয়ে দিল সে। তিন গোয়েন্দা আর শ্যারন ফিরে এলো রিসেপশন অফিসে। ভিতরে ছুকেই কিশোর জিজ্ঞেস করল, মিস্টার লেবউফ, আগের কর্মচারীদের কারও কাছে মোটেলের চাবি রয়ে গেছে?' না, ফিরিয়ে দিয়েছে। ঠিক যেমন শ্যারন এখন দেবে। হাত বাড়িয়ে দিলেন তিনি গম্ভীর চেহারায়। পার্স খুলে নিজের চাবির রিং থেকে ডগ-হাউসের চাবিটা আলাদা করল শ্যারন ফ্যাকাসে, চেহারায়, তারপর ওটা দিয়ে দিল মিস্টার লেবউফকে। ‘আমি চাই না মানুষ মনে করুক দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মচারী রাখি। আমি,' নিৰ্দয়ের মতো বললেন লেবউফ। শ্যারন প্ৰতিবাদ করল, ‘আমার ডিউটির সময় আবিষ্কার হয়েছে। কুকুরটা নেই, কিন্তু ওটা কখন চুরি গেছে সেটা কেউ জানে না। ‘এমন কোনও প্রমাণ নেই যে চুরির সঙ্গে শ্যারন কোনও ভাবে জড়িত,' বল কিশোর। কিন্তু ওঁকে বরখাস্ত করার মতো যথেষ্ট কারণ ঘটেছে বলে আমি মনে করি, কড়া চোখে কিশোরকে দেখলেন লেবউফ । [[চলবে..........]]

ক্রেডিটঃ বাংলার সেরা গোয়েন্দা গল্প  

Post a Comment

0 Comments